Posts

পবিত্র আত্মার কাজ কী? What is the mission of the Holy Spirit?

Image
 পবিত্র আত্মার কাজ কী? একদিন সন্ধ্যাবেলা যীশু তাঁর শিষ্যদের তাঁর আসন্ন বিদায়, তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বললেন। তখন এ বিষয়টি শিষ্যদের ভীষণভাবে ব্যথিত করল। কিন্তু তিনি তাঁদের আশ্বাস দেন যে তাঁদের অসহায় রেখে যাবেন না। বরং তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে পবিত্র আত্মাকে তারা পাবেন। “আমি তোমাদিগকে অনাথ রাখিয়া যাইব না, আমি তোমাদের নিকটে আসিতেছি” যোহন ১৪:১৮ পদ)। যখন খ্রীষ্ট জগতে ছিলেন তখন তিনি যা করেছেন পবিত্র আত্মা তাঁদের জন্য তাই করবেন। খ্রীষ্ট যেভাবে ছিলেন তিনি সেভাবে থাকবেন।  পবিত্র আত্মা সৃষ্টির শুরু থেকেই জগতে সক্রিয় আছেন। “পৃথিবী ঘোর ও শূন্য ছিল, এবং অন্ধকার জলধির উপরে ছিল, আর ঈশ্বরের আত্মা জলের উপরে অবস্থিত করিতেছিলেন” (আদিপুস্তক ১:২ পদ)। পুরাতন নিয়ম জুড়ে তাঁর কাজের কথা বারবার বলা হয়েছে। যখন যীশু জগতে ছিলেন তখন পবিত্র আত্মা মহাশক্তিতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পঞ্চাশত্তমীর (Pentecost) দিনে তাঁর আসল কাজ শুরু হয়। জগতে পবিত্র আত্মার কাজ তিনি (পবিত্র আত্মা) খ্রীষ্টকে প্রকাশ করেন। পবিত্র আত্মার প্রভাবেই কেবল যীশুকে প্রভু বলে স্বীকার করা যায়। পৌল নিশ্চিত করেন যে পবিত্র আত্মার সাহায্য ছাডা কেউ যীশুকে প...

পবিত্র আত্মা কীসের মতো? তিনি কি ঈশ্বর? পবিত্র আত্মা সম্পর্কে শিক্ষার গুরুত্ব What is the Holy Spirit like? Is He God? The importance of the doctrine of the Holy Spirit

Image
পবিত্র আত্মা সত্য ঈশ্বর।  আমরা বিশ্বাস করি যে পবিত্র আত্মা ঐশ্বরিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সমানভাবে পিতা ঈশ্বর। তিনি পুত্র ঈশ্বর। তিনি সৃষ্টির সময় সক্রিয় ছিলেন। তিনি ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি শয়তানকে প্রতিরোধ করে রাখেন। তিনি পাপ, ধার্মিকতা ও ন্যায় বিচার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন। তিনি সুসমাচারের সত্য সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তিনি নতুন জন্মের প্রতিনিধি। তিনি বিশ্বাসীকে সীলমোহর করেন; পরিধান ও পরিচালনা করেন;  তিনি শিক্ষা দেন আর সাক্ষ্য দেন; তিনি পবিত্র আর বিশ্বাসীদের সাহায্য করেন। আমরা আগেই আলোচনা করেছি যে একমাত্র ঈশ্বর আছেন, তিনি বলেছেন “আমিই আদি, আমিই অন্ত, আমি ভিন্ন আর কোনো ঈশ্বর নাই।” তবুও ঈশ্বর নিজেকে তিন ব্যক্তিসত্তায় যেমন - পিতা, পুত্র (যীশু খ্রীষ্ট) এবং পবিত্র-আত্মায় এক “ত্রিত্বে” প্রকাশ করেছেন, যা প্রত্যেকে সত্য, পূর্ণ ও সমতুল্য এক ঈশ্বর। বাইবেল বলে, “সেই পিতা ঈশ্বরের গৌরব” আরো বলে যে, “সেই বাক্য (যীশু খ্রীষ্ট) ঈশ্বর ছিলেন” আরো বলে যে, “প্রভুর সেই আত্মা” এখানে মাত্র একজন ঈশ্বর  কিন্তু তিন ব্যক্তিসত্তায় তাঁর ঐশ্বরত্বের প্রকাশ। পবিত্র আত্মা কীসের মতো? তিনি ক...

কেন যীশুকে নবি, যাজক এবং রাজা বলা হয়েছে? (১৬ নং পাঠ)

পুরাতন নিয়মে - নবি (prophet), যাজক (priest) এবং রাজা (king), এনাদের দায়িত্বগুলো আলাদা আলাদা ধরণের ছিল, তাঁদের অভিষেকের কারণে তাদের শুচিকরণ কাজ করতে হতো। ১ রাজাবলি ১৯:১৬ পদ, “অবেলমহোলানিবাসী শাফটের পুত্র ইলীশায়কে অভিষেক কর” যাত্রাপুস্তক ৩০:৩০ পদ, “হারোণকে ও তাহার পুত্রগণকে আমার যাজন কর্ম করণার্থে অভিষেক করিয়া পবিত্র করিলেন” ২ শমূয়েল ৫:৩ পদ,  “তাহারা ইস্রায়েলের উপরে দায়ূদকে রাজপদে অভিষেক করিলেন” মসিহ (Messiah) যে আসছেন তাদেরকে সেসব ভবিষ্যদ্বাণীর কাজগুলো পূর্ণ করতে হতো। নবি/ভাববাদি (prophet) হিসাবে খ্রীষ্ট আমাদের কাছে  ঈশ্বরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যাজক (priest)  হিসাবে তিনি আমাদের পক্ষে ঈশ্বরের সামনে দাড়ান। রাজা (king) হিসেবে তিনি ঈশ্বরের অনুগ্রহপূর্ণ ক্ষমতায় শাসন করেন। যীশু খ্রীষ্ট নবি/ভাববাদী (Jesus Christ the Prophet) ঈশ্বর ইস্রায়েলের কাছে প্রকাশ করেন যে তিনি মোশির মতো একজন নবিকে উত্তোলন/তুলে ধরবেন করবেন। দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৮ পদ, “আমি উহাদের জন্য উহাদের ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিব, ও তাঁহার মুখে আমার বাক্য দিব; আর আমি তাঁহাকে যাহা যাহা আজ্ঞা ...

নবিরা কী বলেছেন শুনুন . .

Image
খোদার বিধি-বিধান আমাদের কাছে প্রকাশ করার জন্য, সামনে বিচার আসছে সে বিষয়ে সতর্ক করার জন্য এবং আমাদের নাজাত পাবার উপায় জানানোর জন্য খোদার থেকে তাঁর বার্তাবাহকদের আমাদের জন্য পাঠিয়েছেন। যারা তাদের নিজেদের সতর্ক হওয়া সম্পর্কে লক্ষ্য করেন এবং খোদার দেওয়া নাজাত গ্রহণ করেন তারা খোদার বেহেশতে জিন্দেগী অর্থাৎ অনন্ত জীবন পায়।  কিন্তু যারা নবিদের কথা গুরুত্ব দেয় না বা তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেন তারা অনন্তকাল দোজখের আগুনে ধ্বংস হয়। নবি মূসা তুর পাহাড় থেকে দশটি বিশেষ হুকুম নিয়ে নেমে এলেন যা কিনা খোদা তাকে দিয়েছেন।  এসব হুকুম প্রকাশ করে যে খোদা হলেন পাক খোদা এবং তিনি আমাদের কাছ থেকে আশা করছেন আর চাইছেন যেন আমরা তাঁর হুকুমের বাধ্য থেকে তা পালন করি। খোদার দেওয়া সেসব হুকুমগুলো বিবেচনা করুন, একবার তা গুরুত্ব দিয়ে দেখুন - হিজরত ২০:৩-১৭ আয়াত। ১। আমার জায়গায় কোনো দেবতাকে দাঁড় করাবে না। ২। পূজার উদ্দেশ্যে তোমরা কোনো মূর্তি তৈরি করবে না। ৩। কোনো বাজে উদ্দেশ্যে তোমরা তোমাদের মাবুদ খোদার নাম নেবে না। ৪। বিশ্রামবার পবিত্র করে রাখবে এবং তা পালন করবে। ৫। তোমার পিতা-মাতাকে সম্মান...

খ্রীষ্টের উৎসবের পিছনে ফিরে সেই খ্রীষ্টকে দেখুন

Image
যীশু খ্রীষ্টের জন্ম কখনই . . কোনো জাতীয় নেতাদের মতো নয়, কোনো ধর্মীয় গুরুদের মতো নয়, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতো নয়। কোনো বড় অর্জন করা সেই ব্যক্তিদের মতো নয়।  যারা কিনা জন্মেছিলেন তাদের মৃত্যুতেই সব শেষ। যীশু খ্রীষ্টের জন্ম হওয়া অত্যন্ত বিশেষ জন্ম, কারণ এই জন্ম তাঁরই জন্ম হওয়া সেই নাসারতীয় যীশু খ্রীষ্ট যিনি ২০০০ বছরেও আগে এ ভূবনে এসেছিলেন আর এখনো জীবিত আছেন। তাঁর জন্মগ্রহণে - রাজাদের ভয়ে কাপিয়ে দিয়েছিল তাঁর ফুঁতে - শিষ্যেরা পবিত্র আত্মা গ্রহণ করলেন তাঁর কাপড়ের একটি কোনার স্পর্শে - ১২ বছরের রোগ মুহুর্তেই অদৃশ্য হয়েছিল তাঁর থুতুতে - জন্মান্ধ চোখে দেখতে পেল তাঁর প্রার্থনায় - ৫টি রুটি, ৫,০০০ রুটিতে পরিণত হলো তাঁর দৃষ্টিতে - সাধারণ একজন মৎসজীবী ক্ষমতাশালী প্রেরিতশিষ্যে গঠন হলেন তাঁর উপস্থিতে - মন্দ আত্মার বাহিনিরা যন্ত্রণা পেল তাঁর সুবুদ্ধি এবং বিচক্ষণতায় - বহু বিধি-বিধান বিভ্রান্ত হয়েছিল। তাঁর স্পর্শে - কুষ্ঠরুগী শুচি হয়েছিল। তাঁর মৃত্যু - কবর খুলে গিয়েছিল এবং অনেকে মৃত্যু থেকে উঠে এসেছিল। তাঁর ক্ষত - সমস্ত অসুস্থতা সুস্থ্য হয়েছিল তাঁর উৎসর্গে - মন্দিরের পরদা ছিঁড়ে ভাগ ভাগ হয়ে গিয়েছিল।...

মণ্ডলীতে মহিলা পাস্টর/পালক কি বাইবেল ভিত্তিক?

Image
মহিলা পাস্টর/পালক সম্পর্কে খ্রীষ্টিয়ানদের মধ্যে অনেক বিশ্লেষণ অনেক যুক্তি দেখা যায়। হ্যাঁ সেজন্য এর স্পষ্ট উত্তর খুবই প্রয়োজন। যাহোক এ বিষয়ে ঈশ্বরের ইচ্ছা কী তা প্রমাণ করার উপায় আছে। রোমীয় ১২:২ পদে বলে, “আর এই যুগের অনুরূপ হইও না, কিন্তু মনে নূতনীকরণ দ্বারা স্বরূপান্তরিত হও, যেন তোমরা পরীক্ষা করিয়া জানিতে পার, ঈশ্বরের ইচ্ছা কি; যাহা উত্তম ও প্রীতিজনক ও সিদ্ধ।” ইফিষীয় ৫:১৭ পদ, “এই কারণ নির্বোধ হইও না, কিন্তু প্রভুর ইচ্ছা কি, তাহা বুঝ।” “যদি সরল অর্থ সাধারণ জ্ঞানে বুঝতে পারা যায়, তাহলে অন্য কোনো অর্থের সন্ধান করবেন না তাতে সবকিছু ফালতু বা অর্থহীন হয়ে যায়।” (If the plain sense makes common sense, seek no other sense lest it all becomes nonsense) “তোমার বিশ্বাসগুলোকে বিশ্বাস কর এবং সন্দেহগুলোকে সন্দেহ কর। কখনো তোমার সন্দেহগুলোকে বিশ্বাস করো না এবং বিশ্বাসগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখো না” (Believe your beliefs and doubt your doubts. Never commit the blunder of believing your doubts and doubting your beliefs) আজকের প্রশ্ন হলো, মণ্ডলী পরিচালনায় পাস্টর কিংবা পরিচারক পদে মহিলাদের অবস্থান কি বা...

খ্রীষ্টিয়ানদের জন্য সতর্কতা - অন্য কোনো সুসমাচারে বিশ্বাসী কি না যাচাই করুন

  খ্রীষ্টিয়ানদের জন্য সতর্কতা - অন্য কোনো সুসমাচারে বিশ্বাসী কি না যাচাই করুন সাধু পৌলের পরিত্রাণপ্রাপ্ত হবার পর বিশ্বাসীদের জীবন সম্পর্কে সাধু পৌলের সাবধানতা, যা তিনি গালাতীয় ১:৮-৯ পদে বলেছেন, “কিন্তু আমরা তোমাদের নিকটে যে সুসমাচার প্রচার করিয়াছি, তাহা ছাড়া অন্য সুসমাচার যদি কেহ প্রচার করে Ñ আমরাই করি, কিংবা স্বর্গ হইতে আগত কোন দূতই করুক Ñ তবে সে শাপগ্রস্ত হউক। আমরা পূর্বে যেরূপ বলিযাছি, তদ্রƒপ আমি এখন আবার বলিতেছি, তোমরা যাহা গ্রহণ করিয়াছ, তাহা ছাড়া আর কোন সুসমাচার যদি কেহ তোমাদের নিকটে প্রচার করে, তবে সে শাপগ্রস্ত হউক।” তার এ কথায় কিন্তু সুসমাচার প্রচার এগিয়ে যাচ্ছিলেন।    কলসীয় (১:১) মণ্ডলীর প্রতি পত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়ের এই পদগুলোতে প্রেরিত পৌল মণ্ডলীর সদস্যদের বিশেষভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন, “তাঁহাতেই বদ্ধমূল ও সংগ্রথিত হইয়া প্রাপ্ত শিক্ষানুসারে বিশ্বাসে দৃঢ়ীভূত হও।” দৃঢ়ীভূত শব্দটির অর্থ - “অনমনীয়, শক্ত, অটল বা দৃঢ়ভাবে স্থাপিত। দৃঢ়চেতা, নিশ্চিত, প্রতিষ্ঠিত”। ইফিষের মণ্ডলীকে পৌল লিখেছিলেন, “যেন আমরা আর বালক বা শিশু না থাকি, মনুষ্যদের ঠকামিতে, ধূর্ততায়, ভ্রান্তির চাতুরিক্র...